করোনার কম পরীক্ষা ও ধীরগতি:কুমিল্লা জুড়ে জনমনে ক্ষোভ

0
119

তন্ময় দে সরকার,কুমিল্লা সদর প্রতিনিধি :
স্বাস্থ্যবিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে কুমিল্লা জেলার মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ও বিভিন্ন জেলায় কর্মরতদের বাদ দিলেও কুমিল্লায় স্থিতিশীল জনসংখ্যা ৫০ লাখের মতো। দেশে প্রতি দশলাখ জনসংখ্যায় করোনা সন্দেহে রবিবার পর্যন্ত ১৮৭৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও কুমিল্লায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৮৪১ জনের। মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯২০৩ জনের। ফল এসেছে ৮২৯৫টির।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পর দুই শিফটে প্রতিদিন ন্যূনতম যদি ১৫০ জনের নমুনা পাঠানো হয়, তাহলে গত মে মাসে শুধুমাত্র এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সাড়ে চার হাজারের বেশি নমুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করার কথা। কোনো কোনো দিন তিন শিফটে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার একদিনে মেডিকেল কলেজ থেকে ২৭১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ। জেলার ১৭ উপজেলা থেকে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েকদিন বিলম্বে সিটি করপোরেশন থেকেও নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। কিন্তু বিপুল জনসংখ্যার এ জেলা থেকে গত দুইমাসে মাত্র নয় হাজারের কিছু বেশি নমুনা সংগ্রহে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে জেলায় গণহারে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হলেও আনুপাতিক হারে সাধারণ জনগণ কম আক্রান্ত হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে জেলার বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।দ্বিতীয়বার নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ায় ঠিক কী পরিমাণ মানুষ সুস্থ হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না। একইভাবে পরীক্ষা অনেক কম করায় নীরবে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। নীরব বাহক হয়ে উপসর্গবিহীন রোগীরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মকর্তারা কাজ করছেন। কিন্তু সবক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব আছে। স্ব-স্ব উপজেলায় ঠিকঠাক মতো নমুনা সংগ্রহ করা হলে গ্রাম থেকে কারও কুমিল্লা মেডিকেলে আসার কথা নয়। নমুনা কম সংগ্রহ ও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা না হওয়ায় জনগণ ঝুঁকির মধ্যে আছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা না করা গেলে বিপদ বাড়বে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান,’ধরেন একলাখ ব্যক্তি হটলাইনে ও বিভিন্নভাবে নানা উপসর্গের কথা বলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলো, একলাখ ব্যক্তিকেতো পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। সুনির্দিষ্ট উপসর্গ যাদের আছে,তাদের পরীক্ষা হচ্ছে। কারও সমস্যা থাকলে উপজেলা পর্যায়ে যোগাযোগ করলে সমস্যা সমাধান করবে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষাও উপজেলা পর্যায়ে হবে।’

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে