করোনার ভাইরাস শতভাগ কার্যকর অ্যান্টিবডি আবিষ্কার, মুক্তি মিলবে ৪ দিনেই!

3
460

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এখন সারাবিশ্বে আতঙ্কের নাম।পৃথিবীজুড়ে আতঙ্কের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল নামকরা প্রতিষ্ঠান। ‘সোরেন্টো থেরাপিউটিকস’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি বা প্রতিষেধক ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করেছে তারা। এই অ্যান্টিবডি ‘শতভাগ কার্যকর’ এবং রোগীকে মাত্র চারদিনেই করোনামুক্ত করে তুলবে।

শুক্রবারই (১৫ মে) সান দিয়োগোর প্রতিষ্টান সোরেন্টো থেরাপিউটিকস আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবে জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভ্যাকসিন বা টিকা বাজারে ছাড়ার আগেই এই অ্যান্টিবডির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়ে যেতে পারে খুব শীঘ্রই।

এই অ্যান্টিবডি নিয়ে প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর সোরেন্টো থেরোপিউটিকস পরবর্তী কার্যক্রমে দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলে আগেই এই ‘বিশেষ খবরটি’ দিয়েছে জনপ্রিয় ফক্সনিউজ।

তাড়াতাড়ি প্রতিষ্ঠান এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণজনিত রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবডির ব্যবহার শত বছর ধরে চলে আসতেছে। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সেজন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল অ্যান্টিবডি বা করোনামুক্ত ব্যক্তির প্লাজমায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করে আসছেন প্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞরা।

এতো মহামারী আতঙ্ক শঙ্কা-সন্দেহ সত্ত্বেও সোরেন্টো থেরোপিউটিকসের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন,করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ সফল চিকিৎসার চাবিকাঠি ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গবেষণার অংশ হিসেবে তারা গত দশকে শত কোটি অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর স্ক্রিনিংও করে রেখেছেন। তার মধ্যেই ডজনখানেকের মতো এমন অ্যান্টিবডি রয়েছে, যারা কার্যত করোনাভাইরাসকে মানুষের শরীরে আক্রান্ত বসা থেকে ঠেকিয়ে দিতে পারে।

সোরেন্টো থেরাপিউটিকস’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. হেনরি জি এ বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় এসেছে, তা আমরা জোর দিয়ে প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমে। এমন সমাধান এসেছে যা ১০০ ভাগ কার্যকর হবে বলে আশা করেন। এসটিআই-১৪৯৯ নামে এই অ্যান্টিবডি যদি আপনার শরীরে দেয়া হয়, তাহলে সামাজিক দূরত্বও আপনাকে বজায় রাখতে হবে না। আপনি নির্ভয়ে সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।’

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস গোটা পৃথিবীকে কাবু করে ফেলেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেঃ- ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের প্রত্যেক দেশ। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত সোয়া ৪৫ লাখ বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ। তবে ১৭ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখের বেশি এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮৬ হাজার।

এই ভাইরাসের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে নির্ঘুম রাত কাটছে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান গবেষক ও বিজ্ঞানীদের। শত শত কোম্পানি এই ওষুধ আনার লড়াইয়ে নামলেও এখন পর্যন্ত কেউই সুখবর দিতে পারছে না। বেশিরভাগ প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিনই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যেই সোরেন্টো থেরাপিউটিকস এমন খবর প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমে।

ডা. হেনরি জি বলেন, এই অ্যান্টিবডি মানবদেহে থাকা ভাইরাসটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এবং সেটিকে মুড়িয়ে ওই দেহ থেকে বিতাড়িত করে দেয় এবং সেই সাথে করণ আক্রান্ত রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

 

3 মন্তব্য

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে