তাহিরপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫০জন

0
94

 

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৩০ জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট নতুন বাজারের সড়ক পাড়াতে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশের একটি টিম এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বর্তমান ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম ও একই গ্রামের ডাঃ গোলামনুরের ছেলে আবুল খায়ের এর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আবুল খায়ের শফিকুল ইসলামকে গালাগালি করে নিজ বাড়িতে চলে যান। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আবুল খায়ের নিজ বাড়ি থেকে বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আসার পথে শফিকুল ইসলামের লোকজন আবুল খায়েরকে বেদড়ক মারপিট করেন। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে শফিকুল ইসলামের পক্ষের সুহেল মিয়া বাজারে আসলে আবুল খায়ের এর লোকজন তাকে মারপিট করে।

ঘটনার একপর্যায়ে বিকাল ৫ টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে শফিকুল ইসলামের পক্ষের আহত হন- হৃদয় (২৫), সেনাজুল (৩৫), কাবিল মিয়া (৪০), শালমান মিয়া (৩০), কিবির মিয়া (২২),দুলাল মিয়া (২৫), আলফাজ উদ্দিন (৩০), সিরাজুল ইসলাম (২৫), সুহেল মিয়া (৪০),কামরুল (৪৫),ফকির আলম (৪৫),মেহেদী (২৩), নবী হোসেন (২০), জাকিল মিয়া (৪৫), হেলাল মিয়া (২৫) এবং আবুল খায়ের এর পক্ষে্র আহত হন আবুল খায়ের (৪৫), উকিল মিয়া (৪০),সেলিম মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (৩৫), পারভেজ মিয়া (২২), সাজুল মিয়া (৪৫), সাদিকুর (৩০), দিলসাদ মিয়া (৩৫), নবী হোসেন (২০), রফিক মিয়া (৩৫), হাবিবুল (৩০) সাহিবুল (৩৩), রফিক (৪০)।

 

এ ব্যাপারে শফিকুল ইসলাম বলেন, আবুল খায়ের শুক্রবার রাতে মদ খেয়ে আমাকে অকারনে গালিগালাজ করেন। বিষয়টি আমার ভাই ভাতিজা শুনতে পেয়ে শনিবার সকালে আবুল খায়েরের কাছ কারণ জানতে চাইলে সে উত্তর না দিয়ে অন্য গ্রামের লোকজন দিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে আবুল খায়ের বলছেন, আমি শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলামকে গালিগালাজ করিনি। শনিবার দুপুরে বাজারে আসার পথে তার লোকজন রাস্তায় আটকিয়ে বিনা কারণে আমাকে মারপিট করে এবং আমার দুই লাখ টাকা, মোবাইল ও ডেভিড কার্ড নিয়ে যায়।

তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করি।

তিনি আরোও বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে