টাংগুয়ার হাওরে অবাধে চলছে পোনা নিধন, মৎস্য বৃদ্ধি ব্যাহত

0
68

 

টাইফুন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টাঃ
মা মাছের অভয়ারণ্য খ্যাত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলাধীন টাঙ্গুয়ার হাওরে নিষিদ্ধ কোনাজাল দিয়ে অবাধেই চলছে মৎস্য নিধন। এতে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছের বংশ প্রায় ধ্বংসের পথে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা যায়, এ বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু হাওর পারের কিছু অসাধু জেলে নিষিদ্ধ কোনাজাল দিয়ে দিনে-রাতে অবাধে পোনামাছ নিধনের কারনণ এসব পোনামাছ প্রায় ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের, মন্দিয়াতা, ইন্দ্রপুর, বিনোদপুর, খালাশ্রীপুর, তেলিগাঁও (কৃষ্ণতলা) এবং ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাকাতলা, রুপনগর, ইছামারী, একই উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউহানী ও নিশ্চিন্তপুর গ্রাম সহ হাওর পাড়ের কয়েকটি গ্রামের কিছু অসাধু মৌসুমি জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে বর্ষার ছয়মাস হাওরে নিষিদ্ধ কোনাজাল দিয়ে মৎস্য আহরণ করে।

স্বল্পমূল্যে বিডি শপ থেকে পণ্য ক্রয় করুন এখানে ক্লিক করে

জালটির ছিদ্র মশারির ছিদ্রের চেয়ে ছোট হওয়ায় একেবারে মাছের ছোট্ট পোনাটিও ওঠে আসে। অনেক সময় মাছের ডিমও আটকা পড়ে যায় জালে। এটি নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলে জানা যায়। হাওরে পানির নিচে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা এমনকি বন-ঘাসের কোণায় লুকিয়ে থাকা ছোট মাছটি পর্যন্ত এই জাল ছেকে তুলে আনতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে এটি কোনাজাল হিসেবে পরিচিত।

টাঙ্গুয়ার হাওরের বেরিবেরিয়া, তেকুইন্যা, লেইচ্যামারাসহ বিভিন্ন হাওরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ২০০-২৫০ হাত লম্বা কোনাজাল ১০ হতে ১২জন জেলে দলবদ্ধ হয়ে জালগুলো পানিতে ফেলে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে আস্তে আস্তে দুই পাশ থেকে টেনে এক গুটিয়ে এনে মাছ তুলেছে। এতে করে জেলেদের নিষিদ্ধ কোনাজালে ধরা পড়েছে কার্ফ, খাইলাবাউশ এবং গনিয়া মাছের পোনাসহ বেশকয়েকটি প্রজাতির পোনামাছ ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষিদ্ধ এই কোনাজালের ব্যবহার টাঙ্গুয়ার হাওর সহ তাহিরপুর উপজেলার প্রায় সব হাওরেই কম বেশি চলছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর পারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবীর সাথে কথা হলে জানা যায়, এই জাল দিয়ে হাওরে মাছ আহরণ করা নিষিদ্ধ এটা তারা জানেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এলাকায় আর কোনো কাজ না থাকায় তারা মাছ ধরছেন। জীবিকার প্রয়োজনে এখন হাওরে তাদের মাছ ধরতেই হবে।

উপজেলা মৎস্যবিভাগের পক্ষ থেকে কেউ বাঁধা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, এ বছর মাস দু’এক পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে তাদের একটি জাল ধরা পড়েছিল। এখন মাঝেমধ্যে কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা তাদের বাঁধা নিষেধ করে। নিষেধ অমান্য করেই জীবিকার তাগিদে মাছ ধরছে তারা ।

হাওর পাড়ের মাঝেরছড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রভাত চন্দ্র সরকার বলেন, এ বছর হাওরে কার্ফু, খাইলাবাউশ এবং গইন্যা মাছের পোনা গত বছরের তুলনায় বেশী দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে কোনাজাল দিয়ে যেভাবে পোনামাছ নিধন হচ্ছে তা যদি বন্ধ করা না হয় ঔষুধের জন্যও মাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা উপজেলার আশপাশে মৎস্য নিধন বন্ধে অভিযান করছি। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সাপোর্ট না থাকার কারণে নিয়মিত অভিযান চালাতে পারছি না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় সুস্থ হলে তাঁকে নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে অভিযান চালাবো।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে