শুক্রবার থেকে সিলেট নন্দিতা সিনেমা হলে চলবে সাহসী হিরো আলম

0
865
শুক্রবার থেকে সিলেট নন্দিতা সিনেমা হল চলবে সাহসী হিরো আলম
ফাইল ছবি

শুক্রবার থেকে সিলেট নন্দিতা সিনেমা হলে চলবে সাহসী হিরো আলম0

আগামী শুক্রবার অর্ধেক আসনে বসার শর্তে খোলা হচ্ছে সিনেমা হল। এ ছাড়া সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সিনেমা হল খোলার দিনেই মুক্তি পেয়েছিল আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রযোজিত ও অভিনীত সিনেমা সাহসী হিরো আলম।

আগামী শুক্রবার থেকে সিলেটের নন্দিতা সিনেমা হলে এই ছবিটি দেখতে পারবেন দর্শকরা।

আগামী কাল শুক্রবার অর্ধেক আসনে বসার শর্তে খোলা হচ্ছে সিনেমা হল। এ ছাড়া সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সিনেমা হল খোলার দিনেই মুক্তি পাচ্ছে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রযোজিত ও অভিনীত সিনেমা সাহসী হিরো আলম।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) তথ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস এর বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সিনেমা হলের আসনসংখ্যার কমপক্ষে অর্ধেক খালি রাখা সাপেক্ষে সিনেমা হল খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

সিনেমা মুক্তির বিষয়ে হিরো ডেইলি সিলেট 24 ডটকম বলেন, আনন্দ, চিত্রা মহল, জিঞ্জিরাসহ দেশের অর্ধশতাধিক সিনেমা হলে সাহসী হিরো আলম মুক্তি পাবে। এই পর্যন্ত ৪০টি হল চূড়ান্ত হয়েছে, আগামীকালের মধ্যে অর্ধশতাধিক পেরিয়ে যাবে।

আমাদের অন্যান্য নিউজ পেতে এখানে ক্লিক করুন

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে হল মালিক ও পরিবেশক সমিতির সঙ্গে এক বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক দর্শক নিয়ে ১৬ অক্টোবর থেকে সিনেমা হল খুলে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথাও জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত সরকারের ওই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত আকারে ঘোষণা হলো আজ।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন এ আর মুকুল নেত্রবাদী। পরিচালক দাবি করেছেন, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের চেহারা ভালো হলেও তিনি হিরো আলমের চেয়ে জনপ্রিয় নন। ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবির নাম-ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হিরো আলম। তাঁর বিপরীতে তিন নায়িকা অভিনয় করেছেন। তাঁরা হলেন– সাকিরা মৌ, রাবিনা বৃষ্টি ও নবাগত নুসরাত জাহান। এরই মধ্যে ছবির পোস্টার মুক্তি পেয়েছে। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, উদোম গায়ে হিরো আলম আর তাঁর শরীর পেঁচিয়ে ধরেছে অজগর। পোস্টারের একদম ওপরের দিকে তিন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভঙ্গিমায় হিরো। পোস্টারে হেলিকপ্টারেও হিরোকে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। হিরো আলম ও পরিচালকের মতে ছবিটি বাজিমাত করবে আশা করি দর্শকরা উপভোগ করবে।

হিরো আলমের আর্কষনীয় সিনেমাটি শুক্রবার সিলেটের সবচেয়ে বড় সিনেমা নন্দিতায় দেখা মিলবে। এবং সিনেমা চলাকালীন সময়ে হল পরিদর্শনে সিলেটে আসবেন হিরো আলম।

দর্শকদের উদ্দেশ্যে হিরো আলম বলেন, সাহসী হিরো আলম দেশের প্রথম ব্যতিক্রম সিনেমা। না দেখলে মন্তব্য করা ঠিক না । যারা সিনেমাটি দেখেননি তারাই শুধু সিনেমা নিয়ে মন্তব্য করছেন। মন্তব্য করার আগে একবার হলেও সাহসী হিরো আলম দেখবেন। তারপর সরাসরি সিনেমার ভুল ধরে দিবেন। আশা করি সিলেটের বিনোদন প্রেমী দর্শকরা সাহসী হিরো আলম দেখে আনন্দ পাবেন।

করোনার কারণে বন্ধের প্রায় সাত মাস পর খুলেছে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো। অর্ধেক আসন খালি রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৬ অক্টোবর থেকে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমা দেখানোর অনুমতি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। হল খুললেও শহরের হলগুলোতে দর্শকেরা উপস্থিতি তেমন নেই।ল অন্যদিকে মফস্বল শহরে দর্শকদের উপস্থিতি রয়েছে বলে হল কর্তৃপক্ষরা জানাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ৯টি হলে সিনেমা প্রদর্শন শুরু হয়েছে। রাজধানীর ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে সাহসী হিরো আলম। ফার্মগেটের আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের প্রথম প্রদর্শনী শুরু হয় সকাল ১০টায়। দুই হলে প্রত্যাশার চেয়ে দর্শক কম হলেও দীর্ঘদিনের খরার পর সামান্য বৃষ্টির আনন্দ অনুভব করেছি। সাহসী হিরো আলম কম দেখলেও তুলনামূলক ছন্দ সিনেমার দর্শক ভালো। আর এই হলটির আসন সংখ্যাও অনেক, ১১’শ ওপরে।
এছাড়াও ৯ টি হলের অধিকাংশগুলোতেই দর্শক খরা রয়েছে বলে হল সূত্রে জানা গেছে। তবে ঢাকার বাইরের হলগুলোতে দর্শক আসছে। দিনাজপুরের ফুলুবাড়ির অবকাশ সিনেমায় চলছে সাহসী হিরো আলম চলচ্চিত্রটি। এই হলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৭ মাস পর হল খুলেছে যা দর্শক তা আমাদের কাছে অনেক। এরচেয়ে বেশি আশাও করিনি। কারণ হিরো আলম কোনো তারকা না, তারপরেও এই সিনেমা মানুষ দেখছে, এটাই অনেক।’

বগুড়ার ধুনটের ক্লিওপেট্রা সিনেমা হলের আসন সংখ্যা ১৪’শ। এখানে মুক্তি পেয়েছে সাহসী হিরো আলম। এই হলের ব্যবস্থাপক পরাণ সরকার কালের কণ্ঠকে বললেন, আমাদের সিনেমা হলে প্রতিটি শো’তে দর্শক সংখ্যা ১০০ এর ওপরে, কখনো ১২০ ১৩০, ২০০ এর ওপরেও যায়। করোনার পরে এটা অনেক ভালো। দূর্গাপূজাতেও এই ছবিই চলবে, গ্রামাঞ্চল তো পূজাতে প্রতি শো’তেই ৫০০ এর ওপরে দর্শক থাকবে।

সিরাজগঞ্জের তালা উপজেলার রজনীগন্ধা সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় দর্শকের চাপ বেড়েছে। এখানে প্রচুর দর্শক এসেছে। শুক্রবার অনেক দর্শক ফিরিয়ে দিতে হয়েছে আমাদের। গ্রামের মানুষ হিরো আলমকে দেখতে আসছে।’
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের পূর্ণিমা হলের বুকিং এজেন্ট কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের এখানে চলছে সাহসী হিরো আলম ছবিটি। আমরা আশা করিনি এত দর্শক হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্ধেক আসনে দর্শক বসানোর শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত মেনে চলছি আমরা। অনেক দর্শক ঘুরে গেছে। তাদের আমরা টিকিট দিতে পারিনি। করোনার পর হল খুলে এত বিপুল দর্শক পাওয়া সত্যি আনন্দের।

প্রযোজক পরিবেশক সমিতির হিসাব মতে, মুক্তির অপেক্ষায় আছে ২৪টি সিনেমা। কিন্তু ১৬ অক্টোবর হল খুললেও করোনা মহামারির কারণে নতুন ছবি মুক্তি দিতে চাইছেন না পরিচালক, প্রযোজকরা। বলা যায়, পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই বিশাল লগ্নির ছবি মুক্তি দেওয়ার মতো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সিনেমা হল খোলার এক-দুই মাস পর এসব সিনেমা মুক্তি দিতে ইচ্ছুক প্রযোজক,পরিচালকরা।

বাংলাদেশের সেলিব্রেটি হিরো আলম গুগল সার্চ ইঞ্জিন এটাই প্রমান করলো

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে হিরো আলম সবার উপরে
ফাইল ছবি

প্রতিনিয়ত আমরা যে কোন কাজের জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে বিভিন্ন তথ্য পেয়ে থাকি এবং অজানা বহু তথ্য সম্পর্কে জানতে পারি যা আমাদের নিত্যদিনের জন্য খুব সহায়ক ভূমিকা রাখে গুগল সার্চ ইঞ্জিন। তেমনি পছন্দের তারকার ছবি, তথ্য বা আপডেট পেতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে (google) ঢুঁ মারেন তার শুভাকাঙ্খীরা। এই ক্ষেত্রে যাদের সবচেয়ে বেশি গুগলে খোঁজা হয় তাদেরই গুগল সার্চ ইঞ্জিন তাদেরকে প্রথম পেইজে দেখায়। গুগলের ফিল্টার এমনই। যার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে, তাকেই আগে দেখাবে।

এই ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রায়ই বলে থাকে, তারা ব্যবহারকারীদের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা করে।
এবার গুগলে ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সুপারস্টার (Bangladesh Film Superstar)’ লিখে সার্চ করতে গেলে হিরো আলমকে নিয়ে তৈরি করা দুটি কনটেন্ট প্রথমে দেখা যাচ্ছে। আজ সোমবার বিকেল ২ টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুগলে Bangladesh Film Superstar লিখে সার্চ করলে সবার উপরে হিরো আলমকে দেখাচ্ছে। যদি ইমেজ ও ভিডিওতে কাস্টমাইজ করা হয় সেখানেও হিরো আলম শীর্ষে। অবাক করার বিষয় হলো এই দুটির একটিও হিরো আলমের পেজ কিংবা ইউটিউব চ্যানেল থেকে পোস্ট করা হয়নি।

গুগোল এনালাইসিস নামে একটি অপশন আছে যেখানে খুব সহজে দেখতে পারবেন, কোন একটা শব্দ লিখলে সেটা কতজন আজকে সার্চ করেছে, রেজাল্ট দেখিয়ে দেয়।

আমাদের সকল নিউজ পেতে এখানে ক্লিক করুন

রবিবার গুগলে ‘Bangladesh Film Superstar’ লিখে সার্চ দিলে নিউজপয়েন্টটিভি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে হিরো আলমকে নিয়ে তৈরি করা ভিডিও প্রথমে দেখা গেছে। ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখের বেশিবার ভিউ হয়েছে।

চ্যানেলটির অ্যাবাউটে ‘ভারত সরকারের ডিজিটাল কনটেন্ট এজেন্সি’ লেখা আছে।
দ্বিতীয় ভিডিও’র লোকেশনও ভারতে। খুশ বায়ারওয়া নামের এক যুবকের ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা। বাংলায়ও প্রায় একই অবস্থা। ‘বাংলাদেশি সুপারস্টার’ লিখে সার্চ দিলে ভিডিও অপশনে হিরো আলমকে নিয়ে তৈরি করা কনটেন্ট সবার আগে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সুপারস্টার

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দর্শক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিরো আলম

হিরো আলমের ছবি মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার
ফাইল ছবি

বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িতে হিরো আলম ও তার সহধর্মিণী চিত্রনায়িকা নুসরাত জাহান জিমু। আর দুইদিকে শত শত মানুষ, ঠিক এমন দৃশ্য দেখা গেল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কয়েকটি সিনেমা হলে। গতকাল থেকে সারাদেশের সিনেমা হল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুক্তি পায়নি কোনো নতুন ছবি আর এই সুযোগটাকেই লুফে নিয়েছেন বগুড়ার আশরাফুল আলম। গত মার্চে মুক্তি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা তার প্রযোজনা নির্মিত ছবিটি মুক্তি দিলেন করোনা পরবর্তী হল খুলে দেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই।

হিরো আলম হাজারো জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর হল খুলেছে আর প্রথম ছবি হিসেবে আমার সাহসী হিরো আলম ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এতে আমি খুবই আনন্দিত এবং আপনাদের সাথে এসে সাক্ষাৎ করে খুবই গর্ববোধ করছি আমি। আমি গণমানুষের নায়ক। আপনাদেরকে আমি ভালোবাসি অন্তরের অন্তস্থল থেকে আশাকরি আমার ভালোবাসার মর্যাদা আপনারা দিবেন। সেই সাথে আপনারা আমাদের কষ্টে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আপনারা এসে দেখবেন যেন আমার কষ্টটা সার্থক হয়। ইনশাআল্লাহ সামনে আরও নতুন কিছু ছবি উপহার দিব। পরবর্তী ছবিতে থাকছে অন্যরকম চমক।গত বছর আশরাফুল আলম নিজের প্রযোহজনায় সাহসী হিরো আলমের নামের একটি ছবি নির্মাণের কাজ শুরু করেন, যার সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয় চলতি বছর

নারীর জীবন: বাইরে মহামারি, ঘরে নির্যাতনকারী “হিরো আলম

 

সেদিন যখন পত্রিকায় দেখলাম করোনাভাইরাস মহামারিতে সারাবিশ্বের মানুষ শুধু বেঁচে থাকা নিয়ে আতঙ্কিত, এই পরিস্থিতিতেও চলছে নারীর ওপর সীমাহীন বর্বর নির্যাতন। সারাবিশ্বে পারিবারিক সহিংসতা অনেক বেড়ে গেছে এবং চরম অনিরাপত্তায় ভুগছে নারীরা। বিশ্বব্যাপী এই লকডাউন পরিস্থিতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে গৃহে আবদ্ধ থাকা নারীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন। গৃহে শিশুকে নিপীড়ন করা আরও সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ শিশু ভয়ে কাউকে কিছু বলে না, কী করতে হবে শিশু বুঝে না, কার কাছে যেতে হবে জানে না। এবং সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার, শিশুর কথা কেউ বিশ্বাসও করে না।
এই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস গত ৬ এপ্রিল এই বিষয়ে এক বিবৃতি দিতে বাধ্য হন। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে নিজের ঘরে সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা ছিল নারীদের। অথচ পারিবারিক নির্যাতন এমন আকার ধারণ করেছে যে অনেক নারীর কাছে ঘর এখন নরকের মতো হয়ে উঠেছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার।
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন পুরুষরা ঘরে আবদ্ধ নারীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলো? যারা নির্যাতনকারী তাদের কাছে পরিস্থিতি কোনও ব্যাপার নয় এটা যেন ছেলেখেলা। ব্যাপার হচ্ছে নারী বা শিশু, যাদের সে নির্যাতন করবে, তারা কতটা হাতের কাছে রয়েছে। গৃহবন্দিত্বকালের এই সময়ে নারী দীর্ঘ সময় তার অত্যাচারীর কাছাকাছি থাকে। তারা চাইলেই বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারছেন না, পারছেন না কারও কাছে গিয়ে সাহায্য চাইতে। এসময়টাতে পুলিশ, হাসপাতাল সবাই মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যস্ত। আইন বিষয়ে সহায়তাকারী বিভিন্ন সংস্থাও বন্ধ বা কম কাজ করছে। নির্যাতিত হওয়ার পর অভিযোগ জানানোর কোনও উপায়ই নারীর হাতের কাছে খোলা থাকে থাকছে না এতে অসহায়ের মতো দিন কাটাচ্ছে নারী ও শিশুরা।

এছাড়া এইসময় ঘরে আবদ্ধ পুরুষ অর্থনৈতিক, সামাজিক, চাকরি হারানোর ভয়, ভাইরাস সংক্রমণ ইত্যাদি নানা কারণে হতাশাগ্রস্ত, চিন্তিত এবং মানসিকভাবে ভেঙে বেশির ভাগ পুরুষ। তাদের এই নিরাপত্তাহীনতার সকল চাপ ও ক্ষোভ তারা উগড়ে দিচ্ছে তার পাশে থাকা নারী ও শিশুর ওপর তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে যৌন নির্যাতন। কারণ এটাই সবচেয়ে সহজ উপায় নিজেকে হালকা করার এবং মনকে প্রফুল্ল করার।

সিলেট এমসি কলেজের জঘন্যতম গণধর্ষণের শিকার এক নারীর পরপরই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে এক নারীকে (৩৭) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রধান আসামি চার জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গতকাল রাত পৌনে ১২টায় বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। একটি মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং অন্যটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। দুই মামলাতেই নয় জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার চার জন হলেন— বেগমগঞ্জ একলাশপুর এলাকার রহমত উল্যার ছেলে ও মামলার প্রধান আসামি বাদল (২২), দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, রহমত উল্লাহ ও আবদুর রহিম (২২)।

এদের মধ্যে আজ সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে বাদলকে ঢাকা থেকে ও দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের বিশেষ দল। বিষয়টি ডেইলি সিলেট ২৪ ডটকম কে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম। তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করার সময় একটি পরিবহন থেকে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থেকে প্রধান আসামি বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে বেগমগঞ্জ থানায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

আর গতকাল বেগমগঞ্জ থেকে আবদুর রহিম ও রহমত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাজাহান শেখ ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বড় খালপাড় এলাকায় ঘরে ঢুকে ওই নারীকে অপবাদ দিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে একদল তরুণ। সেসময় ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করেন তারা। ঘটনার এক মাস দুই দিন পর গতকাল দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে ঘরে ঢুকে ওই নারীর স্বামীকে অন্য কক্ষে বেঁধে রেখে আসামিরা তাকে নির্যাতন করেন। তারা এ ঘটনার ভিডিওচিত্রও ধারণ করেন। গত এক মাস ধরে তারা এ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর ও জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি গতকাল জানান, ওই নারীর বিয়ে হয় বছর তিনেক আগে। স্বামী তাকে রেখে অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে স্বামীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী ওই নারীর ঘরে ঢুকেন। স্থানীয় মাদক চোরাকারবারি বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার এ ঘটনা দেখে তার লোকজন নিয়ে রাত ১০টার দিকে ওই ঘরে প্রবেশ করে নারীকে অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করে তার ভিডিও ধারণ করেন।

ওই ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

গতকাল স্থানীয় ইউনিয়ন পিরিষদের চেয়ারম্যানপ্রার্থী সাইদুর রহমান দিপু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাদক চোরাকারবারি দেলোয়ার বাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ তিনি নির্যাতনকারী দেলোয়ার ও তার বাহিনীর লোকজনের গ্রেপ্তার দাবি করে বলেন, ‘কোনো সভ্যসমাজে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে না।’

স্থানীয় একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আমার কাছে এসেছিলেন। তবে কারা তাকে নির্যাতন করেছেন, তা তিনি বলেননি। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার বাড়িতে বসবাস করে না।’

হিরো আলম আজ তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে হয়েছে তীব্র ক্ষোভ নিন্দা প্রকাশ করেন, তিনি বলেন, আপৎকালীন সময়ে অপরাধীরা মানুষের এই দুর্বলতা, অমনোযোগিতা এবং ঘরবন্দি হওয়ার পরিস্থিতিকে কাজে লাগায়। দুঃসময়ে গৃহ একজন নারী বা শিশুর কাছে সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা। কিন্তু মহামারির সময়কার এই সামাজিক দূরত্বকে পুঁজি করে নারীর ওপর অত্যাচারের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, তারই পাশে থাকা পুরুষ।
বাংলাদেশে অধিকাংশ পারিবারিক সহিংসতার ঘটনার কোনও রিপোর্টই হয় না। কারণ পারিবারিক সহিংসতা এমন একটি ঘটনা, যা ঘটিয়ে থাকে পরিবারে থাকা কাছের মানুষ, পাশের মানুষ। যারা নীরবে নিয়মিত অত্যাচার করে কিন্তু সমাজের ভয়ে এসব অত্যাচারের অধিকাংশ কাহিনি বাইরে প্রকাশিত হয় না। পারিবারিক সহিংসতা হতে পারে মানসিক, শারীরিক, যৌন এবং অর্থনৈতিক। লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতার যে ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়টি নজরে আনার ব্যাপারে এখনও তেমন কোনও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেই যতদূর জানি। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা জেলখানা, যেখানে অবরুদ্ধ নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন করছে পরিবারের শক্তিশালী ব্যক্তি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মার্চ মাসে প্রকাশিত একাধিক রিপোর্ট ও সমীক্ষা বলছে, করোনার কারণে ঘরবন্দি বহু দেশেই পারিবারিক সহিংসতার ছবিটা একইরকম। ভারতের লকডাউনের সময় নারী নির্যাতনের ঘটনা উত্তরোত্তর বাড়ছে। গত ২৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় মহিলা কমিশনে শুধুমাত্র ইমেইল মারফত ৫৮টি পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া প্রগ্রেসিভ উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কবিতা কৃষ্ণণ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যারা যোগাযোগ করেছেন তাদের প্রত্যেকেই একটা কথা বলেছেন, লকডাউন ঘোষণা হবে জানলে সময় থাকতে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতেন তারা। লকডাউনের জেরে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।’

‘ হোম কোয়ারেন্টিন চলাকালে নারী হত্যাও বন্ধ হয়নি, থামেনি পুরুষদের ক্রোধ। এজন্যই জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা আর্জেন্টিনায় একটি জরুরি ইস্যু’ কথাগুলো বলেছেন সেখানকার নারীবাদী নিউনা মেনস। গত ২০ মার্চ শুরু হওয়া এই হোম কোয়ারেন্টিনে বুয়েন্স আয়ার্সে ছয় জন নারী নিহত হয়েছে। সাংঘর্ষিক অবস্থায় লকডাউনে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করে নাউ দ্যাট দে সি আস নামের একটি মানবাধিকার গ্রুপ। তারা জানিয়েছে, মার্চেই নিহত হয়েছেন ২৪ জন, অর্থাৎ প্রতি ২৯ ঘণ্টায় ১ জন।

পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীর জন্য কোনও দেশই নিরাপদ নয়। হোম কোয়ারেন্টিন তাদের নির্যাতনকারীর একেবারে কাছাকাছি নিয়ে গেছে। শুধু ভয়ংকর ভাইরাস নয়, এই অবস্থা নারীকে এমন এক পৃথিবীর কাছে নিয়ে গেছে, যেখানে অধিকাংশ দরজাই তার জন্য বন্ধ।

বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলনকর্মীরা বলছেন যে পারিবারিক সহিংসতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে চারিদিকে। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। সেখানে জাতীয় পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক হটলাইনে ১০ থেকে ২৪ মার্চের ভেতর অসংখ্য ফোন এসেছে। নির্যাতিতারা বলছেন নির্যাতনকারীরা তাদের বাড়ি ছেড়েও যেতে দিচ্ছে না, আবার অত্যাচারও চালিয়ে যাচ্ছে। ভিকটিমকে সহযোগিতাকারী নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রোগ্রাম সেইফ হরাইজন বলেছে, পরিবারিক সহিংসতার শিকার মেয়েরা কখনও ফোনই ধরতে পারে না। আমেরিকাতে চ্যাট সার্ভিস ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে ভিকটিমদের জন্য।

১৭ মার্চ থেকে লকডাউনে রয়েছে ফ্রান্স। তার ১১ দিন পরে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফ্রান্সে পারিবারিক নির্যাতন ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। রাজধানী প্যারিসে পরিসংখ্যানটা আরও বেশি, ৩৬ শতাংশ। ফরাসি সরকার ভিকটিমদের বলেছে সরাসরি ফার্মেসিতে সাহায্য চাইতে। ফার্মেসি পুলিশকে জানাবে।

ফরাসি অভ্যন্তরীণ (ইনটেরিয়র) মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ১৭ মার্চ কোয়ারেন্টিন শুরু হওয়ার পর পারিবারিক সহিংসতার হার বেড়েছে। জাতীয়ভাবে পুলিশের ইন্টারভেনশন বেড়েছে ৩২ ভাগ। অনেক হোটেল রুম কম টাকায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হ

স্থানীয় একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ গতকাল dailysylhettoday24.com বলেন, ‘ঘটনার পর ভুক্তভোগ

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে