মধ্যরাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মামুনুল হক গ্রেফতার

0
8324
মধ্যরাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মামুনুল হক গ্রেফতার
ফাইল ছবি

মধ্যরাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মামুনুল হক গ্রেফতার

পল্টন ও সোনারগাঁও থানার অনেকগুলি মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতারে রাতভর একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত আছে। যেকোনো সময় মামুনুল হককে গ্রেফতার করা সম্ভব  হতে পারে হতে পারে।

২০ টাকায় POLO শার্ট! ধামাকা অফার। এবার ২০ টাকায় POLO শার্ট! শুধুমাত্র ১০ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রেজিঃ কারীদের ২০ হাজার জন পাবে এই অফার।

রেজিঃ করুন এক্ষুনিঃ

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মামুনুল হক গ্রেফতার হয়েছেন। এমন খবরের ভিত্তিতে প্রথমে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর নেতা ফজলুল করিম কাশেমীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, এ রকম খবর শোনেননি। তাকে (মামুনুল) কেউ আটক বা গ্রেফতার করেনি। মামুনুল কোথায় আছেন জানতে চাইলে কাশেমী বলেন, তার কাছে নেই। তবে এক জায়গায় আছে, সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।

পরে মোহাম্মদপুর এলাকার কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক জানা গিয়েছে, মামুনুল হক এখনো আটক বা গ্রেফতার হননি। বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। দিবাগত রাত আড়াইটায় তিনি জানান, এখনো অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযানে কারা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য যে কয়টি জায়গায় অভিযান চালানো হবে তার মধ্যেই তাকে (মামুনুল) ধরা সম্ভব হবে। তবে, সেটি রাতে নাকি দিনে তা বলা যাচ্ছে না। স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে মামুন হত্যার হতে পারে।

অপর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসার সামনে সন্ধ্যা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ মোতায়েন ছিল। ওই মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মামুনুল হক। রাত ১১ টার দিকে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।

এরপর রাত ১২ টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামুনুলকে গ্রেফতার করা হয়নি। যারা বলেছে তারা গুজব ছড়িয়েছে এবং ভুল বার্তা দিয়েছে।

অন্যদিকে, মামুনুল হককে গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশ করার শর্তে পল্টন থানার একজন পুলিশ পরিদর্শক বলেন, মামুনুলকে হয়তো পুলিশ গ্রেফতার করতে পারছে না। প্রথমে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে। পরে র‍্যাব আটক দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করতে পারে। তবে সেটা কখন তা বলা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, মামুনুলকে গ্রেফতার করা হলে তৌহিদী জনতা রাস্তায় নেমে আসবে। বেশ কিছু জায়গায় পুলিশি অভিযান হয়েছে, অবিলম্বে এসব বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় মামুনুল হকসহ হেফাজতের কয়েকশ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধের ঘটনায় হেফাজতের তাণ্ডবের পর পুলিশের দুইটি এবং এক সাংবাদিকের করা একটি মামলাসহ মোট তিন মামলার আসামি মামুনুল হক। সবগুলো মামলাতেই মামুনুল হককে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাদের আরো সংবাদ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়ুন 

৬ বছরের ছাত্রকে বলাৎকারের পর কোরআন হাতে শপথ করালেন মাদরাসাশিক্ষক
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ভৈরব কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একমাদারাসা ছাত্রকে মাদারাসাছাত্রক বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক মোহতামিম ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার থেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা কমিটি। কুলিয়ারচর বরখারচর গ্রামের নূরানী হাফিজিয়া আবাসিক মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ১ এপ্রিল গভীর রাতে ওই শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে তুলে নিজ কক্ষে নিয়ে বলাৎকার করেন পাষণ্ড মোহতামিম ইয়াকুব আলী। বলাৎকারের পর ছাত্রকে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য কোরআন শরীফে হাতে দিয়ে শপথ করিয়েছেন ছাত্রকে।
এ ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে গত দুদিন আগে ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে আসে। এরপর মাদরাসায় যেতে তাকে জোর করলে সে আর মাদরাসায় যাবে না বলে জানায়। তারপর পরিবারের পক্ষ থেকে মাদরাসায় যেতে বেশি চাপ দিলে সে মাকে নিয়ে স্থানীয় থানায় চলে যায় বিচার চাইতে।

পরে মা বিষয়টি বুঝতে না পেরে সন্তানকে বাড়ি নিয়ে আসতে চাইলে সন্তান মাকে নিয়ে মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে গিয়ে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলে। এ ঘটনা জানাজানির পর ওই শিক্ষক এরইমধ্যে মাদরাসা ছেড়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা গত বুধবার রাতে বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর এলাকাবাসী জানায়, বিগত কয়েক বছর আগেও এ মাদরাসায় আবুল হাসিম নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ শিশু বলাৎকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল । পরে ওই শিক্ষক রাতে পালিয়ে যায়।
মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাত্তার মিয়া জানান, ঘটনা শুনে ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ ডেইলি সিলেট২৪কে জানান, ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন থানায়। শিশুটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরো পড়ুন

*করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে ৩০ জেলা, শনিবার থেকে লকডাউন পুরো দেশ

বিজ্ঞপ্তিতে শুনতে সংবাদ এর নিচে ভিডিও দেওয়া আছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বাংলাদেশের ৩০টি জেলা করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এই কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (৩০ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সামাজিক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এই ৩০ জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফেনী, চাঁদপুর, নীলফামারী, সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী ও নওগাঁ।
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব জেলাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে এরইমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকির এসব জেলায় সংক্রমণ প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, জেলা পর্যায়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ একাধিক কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা সেই কমিটি ঠিক করবে আর অধিদপ্তর বিষয়টি মনিটর করবে। এবং সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, দেশের ৩০টি জেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বত্র মানুষে মানুষে করোনার সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের শতভাগ মানুষ মাস্ক পরাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যদি জনসাধারণ চলাফেরা করে তাহলে দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ এর মধ্যে পড়ে যাবে তাই আমাদের করণীয় দেশের স্বার্থে সকলকে অবগত করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম প্রস্তুতি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা দেওয়া।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত ৩০ নভেম্বরের পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে দৈনিক শনাক্ত রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সোমবার এক দিনে পাঁচ হাজার ১৮১ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে, যা মহামারি শুরুর পর সর্বোচ্চ।

করণা পরিস্থিতি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে আগামী শনিবার থেকে প্রদেশ লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে